এক্সেসিবিলিটি

WCAG 2.2 AA

টেক্সট সমন্বয় (শীঘ্রই আসছে)

অক্ষরের আকার
অক্ষর ব্যবধান
লাইনের উচ্চতা

দৃশ্যমান সমন্বয়

ইনভার্ট
মনোক্রোম
লিঙ্ক হাইলাইট
বড় কার্সার

সাম্প্রতিক অনুসন্ধান

যোগাযোগ

EARN প্রকল্প জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ ভবন লেভেল-১৯, ৬২/৩, পুরানা পল্টন ঢাকা-১০০০

খোঁজা হচ্ছে...

কোনো ফলাফল পাওয়া যায়নি

EARN প্রকল্পের পটভূমি ও যৌক্তিকতা

EARN প্রকল্প বাংলাদেশের নির্বাচিত গ্রামীণ এলাকায় NEET যুবদের, বিশেষত নারীদের দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণের সুযোগ বাড়িয়ে কোভিড-১৯ মহামারী-পরবর্তী অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করবে।

EARN প্রকল্পের পটভূমি

বাংলাদেশের যুব জনগোষ্ঠীর প্রায় ২৭ শতাংশ NEET (Not in Education, Employment or Training)। অর্থাৎ এই বিপুলসংখ্যক জনগোষ্ঠী শিক্ষা, কর্মসংস্থান বা প্রশিক্ষণে নেই। সংখ্যাটি প্রায় এক কোটি ২৬ লাখ। এর মধ্যে ৮৯.৬ শতাংশই নারী, যাদের প্রায় ৬১ শতাংশ গ্রামীণ অঞ্চলের বাসিন্দা। তাদের NEET হয়ে পড়ার প্রধান কারণ হলো—গ্রামীণ এলাকায় দক্ষতা উন্নয়ন ও আয়ের সুযোগের অভাব এবং প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে বাধা-বিপত্তি। আর্থ-সামাজিক নানা চ্যালেঞ্জ, বিশেষত বহু পরিবারে নারীদের চলাফেরার ওপর নিষেধাজ্ঞা এবং ঘরের কাজে অতিরিক্ত দায়িত্ব যুব নারীদের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। এদিকে, শ্রমশক্তিতে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে ৮৪.২ শতাংশ পুরুষের বিপরীতে নারীদের অংশগ্রহণের হার মাত্র ৩৬.৪ শতাংশ, যা অত্যন্ত উদ্বেগের।

NEET জনগোষ্ঠীর প্রায় ৯০ শতাংশই নারী হওয়ার বিষয়টি জেন্ডার বা লিঙ্গভিত্তিক সমস্যা। এই নারীরা বিদ্যমান দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগগুলো পাওয়ার ক্ষেত্রে বহুমুখী বাধার সম্মুখীন হন। NEET যুবদেরও নানা বাধা আছে। যেমন—দেশের অধিকাংশ প্রশিক্ষণ কেন্দ্র শহর এলাকায় অথবা এমন স্থানে অবস্থিত যা গ্রামীণ NEET নারীদের নাগালের বাইরে। সামাজিক রীতিনীতি ও পারিবারিক বিধিনিষেধের কারণে তাদের এলাকার বাইরে যাওয়া সীমিত। পাশাপাশি নিরাপত্তা ও সুরক্ষার অভাব, আবাসন ও নিরাপদ যাতায়াত ব্যবস্থার ঘাটতি রয়েছে।

আরেকটি বিষয় হলো, মাধ্যমিক শিক্ষা শেষ করার আগেই ঝরে পড়ার কারণে অনেক NEET যুবের আনুষ্ঠানিক কারিগরি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানে ভর্তির জন্য প্রয়োজনীয় ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা থাকে না। তা ছাড়া, প্রশিক্ষণের বিষয়বস্তুগুলো অনেক ক্ষেত্রে গ্রামীণ জীবিকা এবং অর্থনৈতিক সুযোগের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত নয়। আরও একটি বাধা হলো—Socio-Emotional and Behavioral (SEB) বা আর্থসামাজিক আচরণগত দক্ষতা এবং Enterprise Development Training (EDT) বা উদ্যোক্তা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ গ্রহণের সুযোগের অভাব, সীমিত চাকরির সুযোগ থাকা এলাকায় বসবাস, আধুনিক সুযোগ-সুবিধা ও তথ্য সম্পর্কে অপর্যাপ্ত ধারণা। এসব কারণে NEET যুবদের কর্মসংস্থানযোগ্যতা কম থাকে। ব্যবসা শুরুর জন্য প্রাথমিক তহবিল (সিড ফাইন্যান্সিং), ইনকিউবেশন সহায়তা ও মেন্টরিং বা দিকনির্দেশনার মতো উদ্যোক্তা সহায়ক সুবিধাগুলো পান না। এসব বিষয়ই EARN প্রকল্প গ্রহণের পটভূমি তৈরি করে দিয়েছে।

EARN প্রকল্পের যৌক্তিকতা

EARN প্রকল্পটি বাংলাদেশের নির্বাচিত গ্রামীণ এলাকায় NEET যুবদের, বিশেষ করে নারীদের শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণের সুযোগ বাড়িয়ে এবং তাদের কর্মসংস্থানযোগ্যতা বৃদ্ধির মাধ্যমে কোভিড-১৯ মহামারী-পরবর্তী অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করবে। পাশাপাশি কোনো সংকট বা জরুরি পরিস্থিতিতে এটি দ্রুত ও কার্যকরভাবে সাড়া দেবে। নির্বাচিত গ্রামীণ এলাকা থেকে উপযুক্ত NEET যুবদের চিহ্নিত করে বিভিন্ন ধরনের সহায়তা দেওয়ার মূল ধারণাগুলোকে এই প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। প্রকল্পটি নারীদের উপযোগী প্রশিক্ষণ কেন্দ্র গড়ে তোলার মাধ্যমে তাদের প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জনের সুযোগ দেবে। এসব সুযোগের মধ্যে থাকবে উপযুক্ত স্থান নির্বাচন।

EARN প্রকল্প গ্রামীণ NEET যুবদের, বিশেষত নারীদের জন্য 'দ্বিতীয়বার শিক্ষার সুযোগ' (Second-Chance Education) প্রদান করবে। উদ্যোক্তা উন্নয়ন এবং আর্থ-সামাজিক আচরণগত (SEB) দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণের পাশাপাশি প্রাথমিক তহবিল (সিড ফাইন্যান্সিং), নিয়োগকর্তা ও শ্রমবাজারের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির মাধ্যমে এই প্রকল্প একটি রূপান্তরমূলক পরিবর্তন আনবে। এটি বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর জন্য শেষ পর্যন্ত লাখ লাখ নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে পারে। প্রকল্পটি সামাজিক বাধাগুলো দূর করে যুবদের, বিশেষত নারীদের আর্থ-সামাজিক অন্তর্ভুক্তির জন্য একটি অনুকূল পরিবেশ তৈরি করবে এবং সরকারি ও বেসরকারি অংশীজনদের প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি করবে। এছাড়া সচেতনতা বৃদ্ধি, সামাজিক উদ্বুদ্ধকরণ কর্মসূচি, ক্যারিয়ার কাউন্সেলিং, মনস্তাত্ত্বিক সহায়তা এবং পদ্ধতিগত সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে সরাসরি সুবিধাভোগীদের বাইরেও আরও অনেক যুব উপকৃত হবেন।

এই প্রকল্পের পরিকল্পনাটি অর্থনীতির বহুমুখীকরণ সহজ করে একটি টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়ন নিশ্চিত করবে। আশা করা হচ্ছে যে, সফল বাস্তবায়নের মাধ্যমে EARN প্রকল্পটি ২০২৮ সালের মধ্যে অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত খাতগুলোতে পর্যাপ্ত (প্রায় ৯ লাখ) দক্ষ জনশক্তি তৈরি করবে, যা অর্থনৈতিক রূপান্তর ঘটিয়ে দেশকে উন্নয়নশীল দেশ থেকে উত্তরণে সহায়তা করবে।