যোগাযোগ কৌশলপত্র প্রণয়নে কর্মশালা
যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের ‘ইকোনোমিক অ্যাকসিলারেশন অ্যান্ড রেজিলিয়েন্স ফর নিট (ইএআরএন-আর্ন)’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় ‘স্টেকহোল্ডার কনসালটেশন ওয়ার্কশপ’ শিরোনামে একটি কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রকল্পের জন্য একটি কার্যকর ‘যোগাযোগ কৌশলপত্র’ প্রণয়নের লক্ষ্যে ১৫ মে ২০২৫ সকালে রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।
কর্মশালার শুরুতে একটি তথ্যচিত্র উপস্থ্পান করেন আর্ন প্রকল্পের কমিউনিকেশন এজেন্সি ‘স্পেলবাউন্ড কমিউনিকেশন্স লিমিটেড’ এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সাদেকুল আরেফিন। মাঠপর্যায়ে অনুষ্ঠিত ফোকাস গ্রুপ ডিসকাশন ও প্রধান তথ্যদানকারী ব্যক্তিদের সাক্ষাৎকারে প্রাপ্ত তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে তথ্যটিত্রটি তৈরি করা হয়।
কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব মোঃ মাহবুব-উল-আলম। বিশেষ অতিথি ছিলেন যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (গ্রেড-১) ড. গাজী মোঃ সাইফুজ্জামান এবং বিশ্ব ব্যাংকের জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ সৈয়দ রাশেদ আল-জায়েদ যশ। স্বাগত বক্তব্য দেন যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের প্রশাসন উইংয়ের পরিচালক যুগ্মসচিব এম এ আখের। সভাপতিত্ব করেন আর্ন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব কাজী মোখলেছুর রহমান।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মোঃ মাহবুব-উল-আলম বলেন, বাংলাদেশের যুবসমাজ আমাদের জাতির সবচেয়ে বড় শক্তি ও সম্পদ। তারা শুধু আগামীর সম্ভাবনা নয় বরং আজ দেশের সর্বক্ষেত্রে যে সকল পরিবর্তন পরিলক্ষিত হচ্ছে তার মূল চালিকাশক্তি আমাদের এই যুবসমাজ। প্রযুক্তি, উদ্ভাবন, শিক্ষা কিংবা সামাজিক উন্নয়ন সব ক্ষেত্রেই যুবকদের ভূমিকা প্রশংসনীয়। তাদের স্বপ্ন, সাহস ও শ্রমেই গড়ে উঠছে একটি আত্মনির্ভর ও উন্নত বাংলাদেশ। তিনি বলেন, বেকারত্ব সমস্যা আমাদের দেশের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। এই সমস্যা মোকাবিলায় নিট প্রকল্পটি যুগান্তকারী উদ্যোগ হিসেবে কাজ করবে।
আর্ন প্রকল্পের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য নারীর ক্ষমতায়ন। বাংলাদেশের অনেক নারী এখনো অর্থনৈতিক কর্মকা-ে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে বিভিন্ন বাধার সম্মুখীন হন। এই প্রকল্পে মোট উপকারভোগীর ৬০ শতাংশ থাকবে নারী যাদেরকে কর্মদক্ষ করে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে বিশেষ জোর দেয়া হয়েছে। প্রকল্পটি যুব নারীদের জন্য বিভিন্ন প্রশিক্ষণ প্রদান করবে, যা তাদের আত্মবিশ্বাসের সাথে কর্মক্ষেত্রে প্রবেশের জন্য দক্ষ করে তুলবে।
কর্মশালার মূল উদ্দেশ্য ছিল একটি কার্যকর, অংশগ্রহণমূলক এবং টেকসই যোগাযোগ কৌশল প্রণয়ন, যা আমাদের স্টেকহোল্ডারদের সহযোগিতায় প্রকল্পের বার্তা দেশের প্রতিটি নীট তরুণ-তরুণীর কাছে পৌঁছে দিতে পারে। কারণ, আর্ন প্রকল্প যত ভালোভাবেই পরিকল্পনা করা হোক না কেন, টার্গেট গ্রুপ অর্থাৎ যুবসমাজের কাছে সঠিকভাবে পৌঁছাতে না পারলে প্রকল্পের কাঙ্খিত লক্ষ্য অর্জন করা কঠিন হবে। কর্মশালার দ্বিতীয় অংশে ডিসকাশন পর্ব পরিচালনা করেন স্পেলবাউন্ড কমিউনিকেশন্স লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাদেকুল আরেফিন।
বাংলাদেশ সরকারের অনুদান এবং বিশ্ব ব্যাংকের ঋণ সহায়তায় আর্ন প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর। এই প্রকল্পের আওতায় শিক্ষা, চাকরি বা প্রশিক্ষণে নেই- এমন পাঁচ লাখ যুব নারীসহ মোট নয় লাখ যুবকে ২০২৮ সালের মধ্যে অর্থনৈতিক ও সামাজিক কার্যক্রমে অন্তর্ভূক্ত করা হবে, যারা দেশের অর্থনৈতিক রূপান্তর ও প্রবৃদ্ধিতে অবদান রাখবে। আর্ন প্রকল্প কর্মমুখী, উপযুক্ত ও পরিবেশবান্ধব খাতে যুবদের দক্ষতা বৃদ্ধি, দীর্ঘমেয়াদী কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং একইসঙ্গে উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে উঠতে প্রশিক্ষণ ও ক্ষুদ্র ঋণ সহায়তা প্রদান করবে। এসব কাজের মধ্য দিয়ে বিপুল যুব জনগোষ্ঠীকে, বিশেষ করে যুব নারীদের বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক কার্যক্রমে অন্তর্ভূক্তি নিশ্চিত করবে।