যুব উন্নয়নের সব জেলা কার্যালয়ে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে সোলার প্যানেল স্থাপন
নেট মিটারিংয়ের মাধ্যমে জাতীয় গ্রিডের সাথে সংযুক্ত করে যুব উন্নয়নের কার্যালয়গুলোতে নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং ভবিষ্যৎ আয়ের সংস্থান করতেই এই কার্যক্রম হাতে নেয়া হয়েছে।
নেট এনার্জি মিটারিং প্রক্রিয়ায় ভবনের রুফটপে স্থাপিত সোলার প্যানেলের মাধ্যমে উৎপাদিত বিদ্যুৎ গ্রাহক নিজে ব্যবহারের পর অতিরিক্ত বিদ্যুৎ জাতীয় বিতরণ গ্রিডে সরবরাহ করা হয়। সরবারহকৃত বিদ্যুতের হিসাব রাখবে বাই ডিরেকশনাল মিটার। গ্রিডে জমা রাখা বিদ্যুতের পরিমাণ ব্যবহৃত বিদ্যুতের চেয়ে বেশি হলে অর্থ বছর শেষে ওই অতিরিক্ত বিদ্যুতের মূল্য বিদ্যুৎ গ্রাহককে পরিশোধ করবে সরকার।
সৌর প্যানেল স্থাপন কার্যক্রমের আওতায় যুব উন্নয়ন কার্যালয়গুলোর প্রতিটিতে ৩৩ কিলোওয়াট ক্ষমতার অন-গ্রিড সোলার সিস্টেম, বজ্রপাত নিরোধক সিস্টেম, নেট মিটার স্থাপন এবং রিমোট মনিটরিংয়ের জন্য অনলাইন মনিটরিং সিস্টেম চালু করা হয়েছে। মোট সিস্টেম ক্ষমতা ২,১১২ কিলোওয়াট। প্রতিটি সাইটে থাকছে সোলার প্যানেল, ইনভার্টার, অনলাইন মনিটরিং সিস্টেম, স্ট্যান্ড ও কাঠামো, ওয়্যারিং ও সেফটি সিস্টেম, বজ্রপাত নিরোধক সিস্টেম, এয়ার টার্মিনাল, সার্জ প্রটেকশন ডিভাইস, ডাউজ কন্ডাক্টর, আর্থিং সিস্টেম এবং কমিশনিং ও পরীক্ষণ ব্যবস্থা।
বিভাগভিত্তিক সৌর প্যানেল সিস্টেম স্থাপন
ঢাকা বিভাগের ১৩, ময়মনসিংহ বিভাগের ৪, চট্টগ্রাম বিভাগের ১১ ও সিলেট বিভাগের ৪ জেলাসহ মোট ৩২ জেলায় সৌর প্যানেল স্থাপন করেছে ফিবোনাচ্চি জেভি নামে একটি ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান।
ঢাকা বিভাগের জেলাগুলো হলো- ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, মানিকগঞ্জ, নরসিংদী, মুন্সীগঞ্জ, গাজীপুর, কিশোরগঞ্জ, টাঙ্গাইল, ফরিদপুর, মাদারীপুর, শরীয়তপুর, রাজবাড়ী ও গোপালগঞ্জ। ময়মনসিংহ বিভাগের শেরপুর, জামালপুর, নেত্রকোনা ও ময়মনসিংহ জেলা। চট্টগ্রাম বিভাগের চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, খাগড়াছড়ি, চাঁদপুর, রাঙামাটি, চুয়াডাঙ্গা, ফেনী, কুমিল্লা, বান্দরবান, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও নোয়াখালী এবং সিলেট বিভাগের সিলেট, মৌলভীবাজার, সুনামগঞ্জ ও হবিগঞ্জ জেলা।
রাজশাহী বিভাগের ৮, রংপুর বিভাগের ৮, বরিশাল বিভাগের ৬ ও খুলনা বিভাগের ১০ জেলাসহ অন্য ৩২ জেলায় সৌর প্যানেল স্থাপনের কাজ করেছে ফিলামেন্ট সাইন্স জেভি নামে একটি প্রতিষ্ঠান। রাজশাহী বিভাগের রাজশাহী, নাটোর, নওগাঁ, পাবনা, জয়পুরহাট, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, বগুড়া ও সিরাজগঞ্জ জেলা। রংপুর বিভাগের রংপুর, কুড়িগ্রাম, পঞ্চগড়, গাইবান্ধা, লালমনিরহাট, ঠাকুরগাঁও, নীলফামারী ও দিনাজপুর জেলা। বরিশাল বিভাগের বরিশাল, ভোলা, বরগুনা, পটুয়াখালী, পিরোজপুর ও ঝালকাঠি এবং খুলনা বিভাগের খুলনা, যশোর, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, মাগুরা, নড়াইল, ঝিনাইদহ, কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা ও মেহেরপুর জেলা।
প্যানেলগুলো স্থাপন ও কার্যকর করে তোলার মাধ্যমে যুব প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলোয় বিদ্যুতের বিল গড়ে প্রায় এক তৃতীয়াংশে নেমে এসেছে। জাতীয় গ্রিডের ওপর নির্ভরতা কমেছে। প্রশিক্ষণ ও প্রশাসনিক কাজ এবং কম্পিউটার ল্যাব পরিচালনায় নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবারহ নিশ্চিত হয়েছে। সেই সঙ্গে জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার কমে যাওয়ায় পুরো বিদ্যুৎ সরবারহ ব্যবস্থা পরিবেশবান্ধব হয়ে উঠেছে।