জনসংযোগ প্রচারণা কৌশল নির্ধারণে কর্মশালা
যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উদ্যোগে গৃহীত প্রকল্প EARN এর জনসংযোগ প্রচারণা কৌশল নির্ধারণে এক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ১৬ অক্টোবর ২০২৪ রাজধানীর মতিঝিলে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত 'ইনসেপশন রিপোর্ট ওয়ার্কশপ অন দ্য প্রিপারেশন অব দ্য কমিউনিকেশন স্ট্র্যাটেজি পেপার ফর দ্য আর্ন প্রজেক্ট' শিরোনামে এ কর্মশালা উদ্বোধন করেন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (গ্রেড ১) ড. গাজী মো. সাইফুজ্জামান। আর্ন প্রকল্পের আওতায় শিক্ষা, চাকরি ও প্রশিক্ষণে নেই- সারা দেশের এমন নয় লাখ যুবক ও যুব নারীকে প্রশিক্ষণ দিয়ে আত্মকর্মীতে পরিণত করা হবে।
কর্মশালায় যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর ও বিশ্বব্যাংকসহ দেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, কমিউনিকেশন স্ট্র্যাটেজি কনসালটেশন প্রতিষ্ঠান স্পেলবাউন্ড কমিউনিকেশন লিমিটেড ও পলিসি এক্সচেঞ্জ অব বাংলাদেশের প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (গ্রেড-১) ড. গাজী মো: সাইফুজ্জামান বলেন, ‘দেশের বৃহত্তম স্বার্থে আমাদের সম্মিলিত প্রয়াস অত্যন্ত জরুরি। আর্ন প্রকল্পের জন্য যথাযথ পরিকল্পনা গ্রহণ ও সেসব পরিকল্পনা বাস্তবায়নে আপনাদের মেধা, চিন্তন ও পরামর্শ অনেক বেশি কাজে লাগবে’।
কর্মশালায় বিশেষ অতিথি ছিলেন বিশ্ব ব্যাংকের অর্থনীতিবিদ মিস লিন হু পিএইচডি।
কর্মশালায় আর্ন প্রকল্পের জনসংযোগ ও যোগাযোগ কৌশল নিয়ে আলোচনা করা হয় এবং কয়েকটি গ্রুপে ভাগ হয়ে যুব নীতি সহায়তা, মিডিয়া ও যোগাযোগ, লৈঙ্গিক ও সাংস্কৃতিক প্রেক্ষাপট ও প্রশাসনিক প্রেক্ষাপট নিয়ে আলোচনা ও অভিজ্ঞতা বিনিময় করেন অংশগ্রহণকারীরা। পরবর্তীতে সেগুলো একত্রিত করে আলোচনা ও মতামত প্রদানের মধ্য দিয়ে সবাই মিলে প্রকল্পের জনসংযোগ ও যোগাযোগ কৌশলের রূপরেখা নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নেন। সমাজের শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থানে সম্পৃক্ত না থাকা যুবদের সাথে যোগাযোগ, তাদেরকে প্রশিক্ষণের আওতায় নিয়ে আসা এবং সমাজের অন্যান্য শ্রেণিকে ইতিবাচকভাবে এই প্রকল্পে সম্পৃক্ত করার জন্য প্রয়োজনীয় জনসচেতনতা ও প্রচার কার্যক্রমের বিষয়েও একটা নির্দেশনা আসে এই কর্মশালা থেকে।
কর্মশালায় বলা হয়, বাংলাদেশের ১৫ থেকে ২৯ বছরের তরুণদের মধ্যে প্রায় ১০.৬% শিক্ষা, প্রশিক্ষণ বা অর্থনৈতিক কর্মকান্ডে সম্পৃক্ত নন। এই যুবদের, বিশেষ করে নারীদের প্রশিক্ষণ, কর্মসংস্থান ও উদ্যোগ সহায়তার জন্যই যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর ও বিশ্বব্যাংকের অংশীদারিত্বে এই আর্ন প্রকল্পের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। প্রকল্পের আওতায় দেশের ৬৪ জেলার ২৫০টি উপজেলায় নয় লাখ নিট যুবক ও যুব নারীকে প্রশিক্ষণ দেয়া হবে। বাংলাদেশের যুবশক্তিকে দক্ষ, কর্মক্ষম ও কর্মমুখী করে তোলার মাধ্যমে যুবদের ব্যক্তিগত অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করাই এই প্রকল্পের লক্ষ্য। অচিরেই মাঠ পর্যায়ে শুরু হতে যাওয়া এই প্রকল্পের প্রাথমিক কার্যক্রম শেষ। এখন প্রশিক্ষণ কার্যক্রম বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া চলমান।