প্রকল্প বাস্তবায়নে সামাজিক বাধা দূর করতে কাজ করবে প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ
তাদের মধ্যে থেকে 'QCBS' (Quality and Cost-Based Selection) পদ্ধতিতে মূল্যায়ন প্রক্রিয়ায় সর্বাধিক নম্বর পেয়ে নির্বাচিত হয় প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল। এ উপলক্ষে ১৬ জুলাই প্রকল্পের সভাকক্ষে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের আওতাধীন আর্ন প্রকল্প ও প্ল্যান ইন্টারন্যাশনালের মধ্যে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
EARN প্রকল্পের জন্য সোশ্যাল নর্মস স্পেশালিস্ট এজেন্সি (SNSA) হিসেবে নিয়োগ পেয়েছে প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ। এই এজেন্সি নিয়োগ প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ১২টি প্রতিষ্ঠান আগ্রহ ব্যক্তকরণ আবেদনপত্র (এক্সপ্রেশন অব ইন্টারেস্ট) দাখিল করেছিল। তাদের মধ্যে থেকে 'QCBS' (Quality and Cost-Based Selection) পদ্ধতিতে মূল্যায়ন প্রক্রিয়ায় সর্বাধিক নম্বর পেয়ে নির্বাচিত হয় প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল। এ উপলক্ষে ১৬ জুলাই প্রকল্পের সভাকক্ষে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের আওতাধীন আর্ন প্রকল্প ও প্ল্যান ইন্টারন্যাশনালের মধ্যে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর কবিতা বোস ও আর্ন প্রকল্পের পরিচালক কাজী মোখলেছুর রহমান। এ সময় উভয় প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও পরামর্শকগণ উপস্থিত ছিলেন।
প্রকল্পের সফল বাস্তবায়নে সামাজিক বাধা দূর করা এবং সুবিধাভোগী যুবক ও যুব নারীদের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ উদ্দেশ্যে প্রকল্পের আরডিপিপির ৩.২ সাব-কম্পোনেন্টের আওতায় সোশ্যাল নর্মস স্পেশালিস্ট এজেন্সি (SNSA)-কে যুক্ত করার বিশেষ বিধান রাখা হয়েছে।
গ্রামীণ সমাজে নারীদের দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ এবং কর্মসংস্থানে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে যে সকল সামাজিক নিয়ম-নীতি ও লিঙ্গভিত্তিক বাধা বা অন্তরায় সৃষ্টি হয়, তা চিহ্নিত ও দূরীকরণে এই এজেন্সি কাজ করবে। প্রকল্পের আওতায় প্রতিটি ইউনিয়নে গঠিত ২,৫০০টি কমিউনিটি গ্রুপের মাধ্যমে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি, আচরণগত পরিবর্তন (Behavioral Change) এবং ইতিবাচক সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি তৈরিতে এই স্পেশালিস্ট এজেন্সি কৌশলগত ভূমিকা পালন করবে। তাছাড়া, এই স্পেশালিস্ট এজেন্সি ঐতিহ্যবাহী ও ডিজিটাল প্রচার মাধ্যম যেমন-টেলিভিশন, রেডিও, সংবাদপত্র ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক সচেতনতামূলক প্রচারণামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করবে। তারা গ্রামীণ এলাকায় নিরাপদ অবকাঠামো নিশ্চিত করা, ২০টি শিশু যত্ন কেন্দ্র (Child-care) স্থাপন ও নারীদের জন্য উপযুক্ত শিক্ষার পরিবেশ তৈরিতে পরামর্শ প্রদান করবে। যুবদের মনস্তাত্ত্বিক বিকাশ, লিঙ্গভিত্তিক বৈষম্য দূরীকরণ এবং ক্যারিয়ার কাউন্সেলিংয়ের মাধ্যমে সমাজে একটি সমতাভিত্তিক পরিবেশ গড়ে তোলাই হবে এই এজেন্সির লক্ষ্য। সামগ্রিকভাবে, SNSA-এর কার্যক্রম প্রকল্পের চূড়ান্ত লক্ষ্য অর্থাৎ ৯ লক্ষ যুবকের কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে অনুঘটক হিসেবে কাজ করবে।
EARN প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য হলো গ্রামীণ এলাকার শিক্ষা ও কর্মসংস্থান থেকে বিচ্ছিন্ন NEET যুবদের, বিশেষ করে যুব নারীদের দক্ষতা বৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা। ২০৩০ সালের মধ্যে এই প্রকল্পের মাধ্যমে অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত খাতগুলোতে প্রায় ৯ লাখ দক্ষ জনশক্তি তৈরির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, যা বাংলাদেশকে এলডিসি থেকে উত্তরণে সহায়তা করবে।